আওয়ামীলীগই যেন আওয়ামীলীগের কাটা হয়ে না দাঁড়ায়

📅 April 14, 2026 👁️ 289 views 💬 Opinion
আওয়ামীলীগই যেন আওয়ামীলীগের কাটা হয়ে না দাঁড়ায়
প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা শ্রদ্ধেয় সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছিলেন “আওয়ামী লীগ” একটি অনুভূতির নাম। কিন্তু এ “অনুভূতি” যখন দুর্নীতিতে গিয়ে ঠেকে তখন আমরা যারা প্রকৃত আওয়ামী ঘরানার লোক তারা বেশ কষ্ট পাই, আহত হই। নীতির রাজাকে রাজনীতি বলা হলেও এখন আর সে তত্ত্ব কথার কোনো মূল্য নেই। বরং চুরি চামারি, টাউট বাটপারি, দুর্নীতি তথা তেলবাজিতে যে যতো বড়ো রাজা সে ততো বড়ো রাজনীতিবিদ, ততো বড়ো নেতা। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে সত্যিকারার্থে কোনো দলই এসবের উর্ধ্বে নয়। এমনকি প্রিয় দল আওয়ামী লীগও।।

আমার ধারণা ছিলো রাজনীতিবিদদের এ নষ্টামি কেবল মাত্র আমাদের দেশেই সীমাবদ্ধ। দেশের বাইরে বসে যারা দেশীয় রাজনীতি করেন তারা অন্তত এ কলংকের চুনকালি মাখেননা। দেশ ও দলের প্রতি সত্যিকার ভালোবাসা থেকেই সম্ভবত তারা রাজনীতি করেন। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আমার এ ধারণা মোটেও সঠিক নয়। দেশের এ নষ্ট রাজনীতি এখন আর কেবল দেশেই নয় বরং তা দেশের দেয়াল পেড়িয়ে পাড়ি জমিয়েছে বিদেশেও। বিভিন্ন পত্র পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজর দিলেই তা উপলব্ধি করা যায়। এইতো কিছু দিন আগেও দৈনিক ইত্তেফাক সহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে এরকম একটি নিউজ প্রকাশিত হয়।

খবরটির সারমর্ম হচ্ছে, কয়েক মাস আগে ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের যে আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হয় সেখানে বিএনপি জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে স্থানীয় নেতা কর্মীদের অভিযোগ। তাদের কারো সংগে আলোচনা বা শলাপরামর্শ না করেই তিনি এ কমিটি ঘোষণা করেন। এমনকি যে দুজনকে আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব করা হয়েছে যথাক্রমে বেলাল হোসেন ও ইকবাল আহমেদ লিটন তারাও এ কমিটির নামের তালিকা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন। ফলে প্রকৃত আওয়ামী লীগ নেতা কর্মীরা হতাশ, হতবাক ও ক্ষুব্ধ। গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা অচিরেই এ বিতর্কিত কমিটি বাতিলের জোর দাবি জানান।

খবরটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশের আগে থেকেই আমি জানতাম। আওয়ামী লীগের একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে দলটির সব খবরই আমার কানে আসে। আমি প্রত্যক্ষ ভাবে দলের সাথে জড়িত নই বটে কিন্তু প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই আমার সহযোগিতার কোনো কমতি ছিলো না। এখানো মনে পড়ে কিলারনীর ( Killarney ) একটি অনুষ্ঠানে আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা নিয়ে সর্ব প্রথম কথা বলি আমি, রফিক খান ( প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক), মোনায়েম খন্দকার রানা (প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতি) ও ইনজামুল হক জুয়েল ( প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক)। এরই ধারাবাহিকতায় মিটিং অনুষ্ঠিত হয় কর্ক (Cork) ও ওয়েক্সফোর্ডে (Wexford)। গঠিত হয় আহ্বায়ক কমিটি যেখানে আমারো সদস্য পদ ছিলো।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে লিমরিক সাউথ কোর্ট হোটেলে ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে মিরাজ শিকদারকে সভাপতি ও মোনায়েম খন্দকার রানা কে সাধারণ সম্পাদক করে এক সম্মেলনের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। এ সম্মেলনে আমিও উপস্থিত হয়ে ছিলাম। কিন্তু জরুরী কারণ বশত সম্মেলন শুরু হওয়ার আগেই আমাকে বিদায় নিতে হয়। বিদায় বেলায় শ্রদ্ধেয় মিরাজ ভাই আমাকে কমিটিতে থাকার অনুরোধ জানালে আমি বিনয়ের সাথে আমার অপারগতার কথা প্রকাশ করি। এরপরো তিনি আমাকে না জানিয়েই বলতে গেলে অনেকটা গর্বভরে প্রধান উপদেষ্টা পদে রেখে দেন। মিরাজ ভাই সভাপতি থাকাকালীন পর্যন্ত দলটির সাথে আমার বেশ যোগাযোগ ছিলো। পরবর্তীতে খুব বেশি একটা যোগাযোগ রক্ষা করতে না পারলেও আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে কার কতোটুকু ভূমিকা রয়েছে, কে দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ, কে ত্যাগী নেতা তা আমার অজানা নয়। তাদের সবাইকে আমি চিনি। আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারক তারাই। তাদেরকে বাদ দিয়ে যদি কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তবে তা কখনো গ্রহণ যোগ্য ও দলের জন্য মঙ্গলজনক হতে পারেনা।।

এ অগ্রহণ ও অমঙ্গলজনক কাজটিই করেছেন আমাদের প্রিয় নেতা ইউরোপীয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি জনাব নজরুল ইসলাম। একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিক ও বর্ণাঢ্য অতীতের অধিকারী ব্যক্তি হিসেবে তিনি কিভাবে এমন কাঁচা কাজ করতে পারলেন তা আমার বোধগম্য নয়।।

একটি দলের আহ্বায়ক কমিটি গঠিত হবে অথচ সেই দলের নেতা কর্মীরা জানবেনা কিংবা তাদের সাথে শলাপরামর্শ করা হবেনা তাতো হতে পারেনা। নজরুল ইসলাম সাহেব আয়ারল্যান্ডে বসবাস করেননা। তিনি থাকেন অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। আয়ারল্যান্ডে কে আওয়ামী লীগ করে কি করেনা দু একটা বিশেষ পরিচিত মুখ ছাড়া তৃণমূল পর্যায়ে তার ধারণা থাকার কথা নয়। তাহলে সম্প্রতি তিনি যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করলেন তার নামের তালিকা কোথায় পেলেন, কিভাবে পেলেন, কার মাধ্যমে পেলেন? কে সেই মহারথী? ।
← Back to Opinion